সভাপতির বাণী
অত্র প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতির বিশেষ বার্তা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
শিক্ষা হলো আলোর সেই অনির্বাণ শিখা, যা মানুষের ভেতর থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আলোকিত করে। একটি প্রগতিশীল, মেধাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার হলো মানসম্মত শিক্ষা। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের এক অনন্য বাতিঘর মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
১৯৫৩ সালের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব এবং সমবায়ের অনন্য আদর্শে উদ্বুদ্ধ সাধারণ মানুষের ত্যাগ ও পরিশ্রমে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা সাফল্যের বহু দিগন্ত স্পর্শ করেছে। এই মহান প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়।
নদী-বিধৌত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই উপকূলীয় জনপদে একসময় শিক্ষার আলো পৌঁছানো অত্যন্ত দূরূহ ছিল। সেই বৈরী সময়ে মহিপুর অঞ্চলের মানুষের মনে শিক্ষার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল, তারই ফলশ্রুতি এই বিদ্যালয়।
বিশেষ করে ১৯৫৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সমবায় সমিতি 'মহিপুর S.R.O.S.B সোসাইটি লিমিটেড' যেভাবে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেছে, তা বাংলাদেশের সমবায় ও শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। সেই সোনালী অতীতকে বুকে ধারণ করে আমাদের শিক্ষক মণ্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ এবং পরিচালনা পর্ষদ একযোগে কাজ করে চলেছেন।
আজকের পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের সন্তানরা এক তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। তাই প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের আধুনিক, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এবং সৃজনশীল শিক্ষায় দীক্ষিত করা সময়ের দাবি। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বর্তমানে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ম্যানেজমেন্টের আওতায় এসেছে।
আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, উন্নত আইসিটি ল্যাব এবং বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ল্যাবরেটরির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটাতে সচেষ্ট রয়েছি।
সভাপতি হিসেবে আমার মূল অঙ্গীকার হলো—শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুগোপযোগী পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিবিড় একাডেমিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সততা, দেশপ্রেম, পরমতসহিষ্ণুতা এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এই লক্ষ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ স্কাউটস, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।বিদ্যালয়ের এই দীর্ঘ পথচলায় আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সকল দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা এবং পূর্বতন শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের, যাঁদের অবদান ছাড়া আজকের এই অবস্থান কল্পনা করা যেত না।
বর্তমান শিক্ষক মণ্ডলীর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রইল, যাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পরম মমতায় আমাদের সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মহান ব্রত পালন করে চলেছেন। একই সাথে সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান—আপনাদের সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নে আপনাদের গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে আমাদের পথচলাকে আরও সুগম করুন।
আমি পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার কাছে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান ও মানবিকতা দিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করবে—এই প্রত্যাশায়।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের এই সৎ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
ধন্যবাদান্তে,
সভাপতি
ম্যানেজিং কমিটি
মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
থানা সদর মহিপুর, পটুয়াখালী।
